করোনাতে এবারের মাহে রমজান যেভাবে পালিত হবে।

আজ ২৪ শে এপ্রিল সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল থেকেই শুরু হবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের রোজা রাখা। সবাই আজ থেকেই আয়োজন করে রাখছে রমজানে বেশি বেশি করে ইবাদত, ইফতার, সেহরির খাবার সামগ্রী।  

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম মসজিদে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। করোনা এসে পুরো বিশ্বের ভাবমূর্তি পাল্টে দিয়েছে। মসজিদে তারাবীহ নামাজের জামাতে ১২ জনের বেশি পড়া যাবে না। প্রায় সব মসজিদে খতমে তারাবিহ পড়ার প্রচলনে এবারই ব্যাঘাত ঘটবে। মসজিদে সীমিত পরিসরে যেই তারাবিহ পড়ানো হবে, সেখানে হবে সূরা তারাবিহ। সবাই যার বাড়িতে তারাবীহ পড়ার আহ্বান করেছে দেশ সরকার। 

অন্যান্য বছরের মতো মসজিদে জমায়েত করে ইফতারি খাওয়া নিষিদ্ধ। প্রতি বছরই বিভিন্ন সেচ্ছাসেবক, ধনী মানুষের পক্ষ থেকে বড় করে ইফতারের আয়োজন করা হতো। ধুমধাম করেও কত কত ইফতার পার্টি করা হয়। এবার পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র। বাহিরে কেউ একসাথে বসে ইফতার করতে পারবে না। 

অন্যান্য বছরে অনেকে রমজানে সময় কাটানোর জন্য বাহিরে খেলাধূলা করতো, কোরআন তেলাওয়াতের আসর হতো, এবার করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সব ধরণের জমায়েত নিষিদ্ধ।  গরিব, দিনমজুর, অসহায়, কর্মহীন মানুষগুলো খুব কষ্ট করেই এবারের রমজান মাস পালন করতে হবে। অন্যান্য রমজানের মতো এবার মানুষে মানুষে উদযাপন, আনন্দ দেখা যাবে না। সবাই নিজ নিজ বাড়িতে থেকে ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে। 

করোনায় প্রায় দেড়মাস ধরে পুরো বাংলাদেশ অচল অবস্থায় আছে। কয়েক দফা পরিবর্তন করে এবার ৫ ই মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থ আর রিযিকের অভাবে গরিবের কষ্টগুলো ভালোই বুঝতে পারবে ধনী সম্প্রদায়। কিন্তু গরিবদের কি হবে?? তারা কোথায় যাবে? অন্য রমজানে তো ইফতারি খাওয়ার মতো কত ব্যবস্থা ছিলো। এখন সেই সুযোগও নেই। আমাদের প্রত্যেকের উচিত আশেপাশের গরিব মানুষগুলো অল্প করে হলেও ইফতারিতে শরিক করা।হে দয়াময় আল্লাহ, এমন রমজানের মতো পৃথিবীতে আর কোনো রমজান যেনো না আসে। 

বেশি বেশি তথ্য পেতে অনলাইন পত্রিকার পাশে থাকুন। লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করুন।



লেখাঃ নূরে আজম খান





কোন মন্তব্য নেই

Write your comment here........

Blogger দ্বারা পরিচালিত.