মাহে রমজানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ।

তিনদিন হয়ে গেলো মাহে রমজানের আগমন। করোনার কারণে অন্যান্য বছরের মতো এবার রমজানে এতো রমরমা উদযাপন নেই। তবে ঘরে বসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অনেক ফজিলতপূর্ণ আমল করে নিতে পারেন। রোজা রাখা ফরজ। সহীহ শুদ্ধভাবে যে ব্যক্তি রমজানের ৩০ টি রোজা রাখবে, আল্লাহ তাকে আল্লাহর কুদরতি হাতে পুরষ্কৃত করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

রমজান মাস হলো কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার মাস।  বান্দার সর্বশ্রেষ্ঠ নফল এবাদত হলো কোরআন তেলাওয়াত করা। আর এই রমজান মাসে প্রতিটা নফল ইবাদতকে আল্লাহ ফরজের সমান সওয়াব দিয়ে দিবেন, সুবহানাল্লাহ। তাই যত বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া যায় ততই উত্তম। নফল নামাজের মধ্যে সর্বোত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদ ও আওয়াবীণের নামাজ। আর রমজানে যে ব্যক্তি একটি ফরজ আদায় করে, আল্লাহ তাকে ৭০ টি ফরজের সওয়াব দান করবেন। সুবহানাল্লাহ।

মহানবী(সাঃ) বলেছেন, " ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি, যে রমজান পেলো, কিন্তু নিজের গোনাহ মাফ করাইতে পারলো না।"  তার মানে এই ফজিলতের মাসে আমাদের বেশি বেশি তওবা করা উচিত। এই মাস অপচয় করা সবচেয়ে বোকামি কাজ।  সারাক্ষণ ইবাদতে মশগুল থাকাই সর্বোত্তম কাজ। রমজানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো "তারাবীহ নামাজ"। অনেক মসজিদে " খতমে তারাবিহ" পড়ানো হয়, সেটাই সবচেয়ে উত্তম। যেহেতু দেশের করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় মসজিদে সবাই নামাজ নামাজ পড়া নিষেধ, তাই আপনি বাড়িতে নিজে নিজে "সূরা তারাবীহ" পড়ে নিতে পারেন।

রমজানকে ৩ টি স্তরে ভাগ করা হয়। রহমতের ১০ দিন, মাগফিরাতের ১০ দিন, নাজাতের ১০ দিন। এই মাসের ৩ স্তরে ৩টি তাসবীহ পাঠের গুরুত্ব মাওলানা, ইসলামিক নেতারা বলে থাকেন। প্রথম ১০ দিন "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ)" পাঠ করা,  মাগফিরাতের ১০ দিন আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করা, শেষ ১০ দিন "আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার" এটি পাঠ করা অতি উত্তম। রমজান মাসের একবার তাসবীহ পড়া অন্যান্য মাসের হাজার  তাসবীহ-এর চেয়েও উত্তম।

ইফতারিকে সামনে নিয়ে মহানবী (সাঃ) বেশি বেশি পড়তেন " ইয়া ওয়াছিয়াল ফাদলি, ইগ্ ফিরিলি"। এখন পুরো বিশ্বে করোনায় হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। মহানবী (সাঃ) -এর শেখানো মহামারীর দোয়াটি বেশি বেশি করে পড়ে আল্লাহ্-এর কাছে করোনা থেকে মুক্তি চাইবো। আল্লাহ হয়তো রমজানকে উছিলা করে আমাদেরকে করোনা থেকে মুক্তি দিয়ে দিতে পারেন। তাছাড়া রমজানে মেসওয়াক করা অতি উত্তম একটি কাজ। আল্লাহ্ আমাদের সকলকে রমজানের হক আদায়ের তৌফিক দান করুক। আমিন।

এমন ভালো ভালো পোষ্ট পেতে অনলাইন পত্রিকার সাথে থাকুন। বেশি বেশি লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করুন।ধন্যবাদ।

লেখাঃ নূরে আজম খান

কোন মন্তব্য নেই

Write your comment here........

Blogger দ্বারা পরিচালিত.