করোনায় যা কিছু সুসংবাদ।


করোনাতে যখন সারাবিশ্বে আতঙ্ক বিরাজ করছে, তখন চারদিকে কিছু সুসংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। করোনাতে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুবরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এসব রাষ্ট্রে। প্রতিদিন ৮০০/৯০০ করে মানুষ মরতো করোনায়। এমন কি একদিনে মৃতের সংখ্যা হাজারও ছাড়িয়েছে কয়েকবার। কিন্তু গত কয়েকদিনে স্পেন, ইতালি, ফ্রান্সে সবচেয়ে কম মৃত্যুর রেকর্ড হয়। এখন প্রতিদিন ১৫০/২০০ শত মানুষ মারা যাচ্ছে, যা আগের তুলনা অনেক অনেক কম। তাই তাদের দেশের লকডাউন অনেকাংশে শিথিল করা হয়েছে। স্পেনে ৬ সপ্তাহ পরে শিশুদের জন্য সকল খেলার মাঠ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ইতালিতে পার্ক, রেস্তোরাঁ সব খোলে দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্য অনেক আগেই লকডাউন তুলে নিয়েছে। 

আরেকটি সুসংবাদ হলো, পুরো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা মোটামুটি আশা দেওয়ার মতো ৬ টি ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হলো "রেমডিসিভি", যা যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা আবিষ্কার করেছে। এই ভ্যাকসিন করোনা আক্রান্ত রোগীকে প্রায় ১১ দিনে সুস্থ করে দিতে সক্ষম।  এই ভাইরাস বাজারজাত করার অনুমোদনও মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই ভ্যাকসিন রোগীকে  দিলে, খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠছেন।

তবে অন্যান্য গবেষকরা বলছেন, সারা বিশ্বের জন্য গ্রহনযোগ্য ভ্যাকসিন তৈরি করতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সারাবিশ্বের কাছে পৌছে দিতে আরো সময়ের ব্যাপার। সে যা-ই হোক, আস্তে আস্তে পুরো বিশ্ব থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীর সুস্থের হারও বেড়ে গেছে৷ 

বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগী হঠাৎ করে চমক দেখিয়ে গত ৩ রা এপ্রিল ৮৮৬ জন একসাথে একদিনে সুস্থ হওয়ার রেকর্ড করেন। যেখানে ৩রা এপ্রিলের আগে সর্বমোট সুস্থ ছিলো ১৭৭ জন।  প্রতিদিন সুস্থ হতো ১০/১২ জন করে, সেখানে হঠাৎ করে ৮৮৬ জন সুস্থ হওয়া সত্যিই আশা জাগানিয়া।  তারপর ৪ এপ্রিল একদিনে করোনায় সুস্থ হয় ১৪৬ জন, ৫ই এপ্রিল করোনা থেকে সুস্থ হয় ১৯৩ জন। বাংলাদেশের মৃতের সংখ্যাও অনেক নিয়ন্ত্রণে আছে, যদিও আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করছে। 

বর্তমান বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, চারদিকে শুনা যাচ্ছে আশার বানী। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, কবে স্থায়ী, সার্বজনীন ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। 

এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে অনলাইন পত্রিকার পাশে থাকুন।  ধন্যবাদ। 

লেখাঃ নূরে আজম খান

কোন মন্তব্য নেই

Write your comment here........

Blogger দ্বারা পরিচালিত.